শীতের সকাল

শীতকাল মানেই বৈচিত্র্যময় একটি নতুন রূপ প্রকৃতিতে এক ভিন্ন ধরনের রূপ নিয়ে আসে শীতকাল আর এই ভিন্ন রূপটি দেখা মেলে শীতের সকাল বেলায়। ঘন কুয়াশায় শিশির ভেজা মেঠো পথ যেন এক অন্যরকম রূপ। শীতকালে দেখা মেলে ভিন্ন ধরনের ফল শাকসবজি পিঠা উৎসব নতুন খাবার আর শীতের সকাল বেলায় খেজুর রস তো অনেকেরই প্রিয়।
শীতের সকাল

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা আজকে আমরা শীতের সকাল শীতের পিঠা এবং শীতের খাবার শীতের ফল ও সবজি নিয়ে আলোচনা করব শীতকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লেখাটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

 শীতের সকাল

প্রাকৃতির পালাবদলের হাওয়ায় শীত আসে আনন্দ ও উৎসব নিয়ে।  ভরা মাঠ সবুজ শাক সবজি আর ফলমূল এ ভরে থাকে মাঠের পুরোটা। বাংলাদেশ ছয়টি ঋতুর দেশ তার মধ্যে শীত কাল হচ্ছে পঞ্চম। পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। শীত প্রাকৃতির বুকে বলিয়ে দেয় শীতের হিমেল হাওয়া ভোরের ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে প্রাকৃতির সমস্ত রূপসজ্জা। কনকনে শীতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা, শীতের সকাল বেলায় ঠান্ডা হিমেল হওয়ার কারণে আগুনের চারিপাশে সকলে বসে আড্ডা দেওয়া। দাদি মারা মিলে শীতের বিভিন্ন পিঠা বানানোর উৎসব। শীতের সকাল বেলায় খেজুর গাছের রস খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠা। শীতকাল আমাদেরকে বিভিন্ন উৎসব দিয়ে থাকে শীতের জীবন টা পুরোটাই আলাদা। কালে থাকে ভিন্ন ভিন্ন পোশাক শীতের সকাল বিকেলে থাকে ভিন্ন ধরনের খেলাধুলা শীতে নতুন ফলমূল শাক-সবজি দেখা যায়।

শীতের পিঠা

শীতকাল যেমন নতুন রূপ ও উৎসব নিয়ে আসে তেমন নতুন বেরঙের খাবার পিঠা পায়েস নিয়ে আস। আমরা যেমন শীতের দিনে বিভিন্ন ফলমূল শাকসবজি চাষ করতে খেলাধুলাতে ব্যস্ত থাকি শীতের সকাল বেলায় তেমনি আমাদের মা দাদী নানী ফুপু সবাই ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন পিঠা তৈরি নিয়ে তাছাড়াও বাংলাদেশ শীতকালে বিভিন্ন পিঠা উৎসব হয়ে থাকে যেমন ধরেন।

  • খেজুর গুড়, নারকেল, দুধ, বাদাম ও চালের আটা দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা।
  • চাল ও ময়দার আটা, গুড় এবং ডিম দিয়ে তৈরি পাটিসাপটা পিঠা।
  • চালের আটা এবং চিনি ও গুড়ের সেরা দিয়ে তৈরি নকশি পিঠা।
  • তেল চিনি আটা বাদাম নারকেল দুধ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের জনপ্রিয় পিঠা হচ্ছে পুলি পিঠা।
  • ময়দা, চালের গুড়া এবং চিনি ও গুড়ের সেরা দিয়ে তৈরি হয় ঝিনুক বা খেজুর পিঠা।
  • খেজুর গুড়ের সেরা ও নারকেল দুধ বাদাম কিসমিস খেজুর ইত্যাদির সেরা তৈরি করে বানাতে হয় রস পিঠা বা ভেজা পিঠা।
  • তেল পিঠা চালের আটা চিনি এবং তেল দিয়ে তৈরি হয় তেল পিঠা শীতের দিনে এটি বেশ জনপ্রিয়।
  • চালের আটা গরম পানিতে গুলিয়ে তৈরি হয় চিতই পিঠা শীতের সকাল সন্ধ্যায় এই পিঠা বেশ জনপ্রিয়।
  • এছাড়া আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় আরো শীতের পিঠা আছে যেমন লবঙ্গ পিঠা, ঝিনুক পিঠা, হৃদয় হরণ পিঠা, কাশ্মীরি ভাপা পিঠা, নারকেল গুড়ের মেরা পিঠা, খেজুর রসের বিবিখানা পিঠা এবং খোলাজা পিঠা এই পিঠাগুলো শীতকালে বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় শীতকালে বিভিন্ন উৎসবে এই পিঠাগুলো দেখা যায়।

শীতের খাবার

শীতকাল হচ্ছে বিভিন্ন খাবার খাওয়ার একটি আদর্শ সময়। শীতকালে বিভিন্ন ধরনের পিঠা উৎসব এবং বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি দেখা যায় যেগুলো অন্য ঋতুতে পাওয়া খুব মুশকিল। তাই এই খাবারগুলো সবারই খেতে ভালো লাগে। লেখক হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক চেয়ারম্যান এর মতে শীতের খাবারের নিয়ম ঠিকঠাক না মানলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে তার সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শীতের সময় অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকে তার সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন চর্মরোগ, কিন্তু এইসব রোগ ঠেকাতে শীতের কিছু খাবার আছে।

শীতের খাবার

  • যেমন স্যুপ শীতে শরীর সুস্থ রাখতে স্যুপ ও ঝোল দারুন উপকারি।
  • মূল জাতীয় সবজি শীতের সকাল এ শরীর থেকে বিভিন্ন রোগ-বালাই দূর করতে যেমন মিষ্টি আলু, গাজর, কেশর এবং বিট শীতকালে আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরে আঁশের এবং ফাইবার এর ঘাটতি মেটাতে এবং ভিটামিন-সি যোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে টক ফল খেতে পারেন যেমন মাল্টা, কমলা, লেবু, বরই এবং পেয়ার।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শীতে নিজেকে সুস্থ থাকতে পালং শাক বেশ উপকারী। পুষ্টিতে ভরপুর পালং শাক এ আছে বিভিন্ন উপাদান ও ভিটামিন মিনারেল শীতে নিজেকে সুস্থ রাখতে পালং শাক খাবার তালিকা রাখুন।
  • প্রচুর শীতে শরীরের শক্তি জোগাতে ও শরীরকে তাজা রাখতে সিদ্ধ ডিম বেশ উপকারী। শীতের সকাল সন্ধ্যায় আমরা কম বেশি সকলেই ডিম খেয়ে থাকি কারণ ডিমের মধ্যে আছে ৯ টির ও বেশি উপাদান ডিমে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন যেমন ভিটামি।-বি২,বি১২, জিংক, ফসফরাস এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল। শীতের খাবার তালিকাতে প্রতিদিন ডিম রাখুন।
  • এছাড়াও আরো অনেক খাবার আছে যেগুলো শীতে আমাদের শরীরকে শক্তি এনার্জি এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি পূরণ করে থাকে যেমন মাছ, মাংস, মধু, দুধ এবং বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি।

শীতের সবজি

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ এক এক ঋতুতে এক এক ধরনের ফল ও শাকসবজি জন্মায়। শীতের সময় আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ফলমূল উৎপান্ন হয় যেমন ধরেন ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, টমেটো, মুলা, বেগুন, লাউ, শিম, পালং শাক, লাল শাক, ধনেপাতা এবং শালগম এগুলো হচ্ছে শীতকালীন শাকসবজি। শীতকালীন শাকসবজিতে বিভিন্ন উপকারী ভিটামিন থাকে যেমন ভিটামিন এ, বি, সি এবং ক্যালসিয়াম আয়োডিন ও লৌহ যেগুলো থেকে শরীরের বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়। এছাড়াও সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজিতে বিশেষ করে গাজর, টমেটো, বাঁধাকপি, মুলা-শাক, লাল-শাক এবং পালং-শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন থাকে। এই ক্যারোটিন থেকেই আমাদের শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন উৎপন্ন করে।

শীতের ফল

আমাদের দেশের ছয়টি ঋতুর মধ্যে শীত একদম আলাদা ঋতু। সুন্দর পোশাক চলাফেরা থেকে শুরু করে ঘোরাফেরা ভ্রমণ খাদ্য তালিকা সব কিছুই এ ঋতুতে ভিন্ন রূপে দেখা যায়। শীতে যেমন নতুন পোশাক সবাইকেই পরিধান হয় তেমনি খাদ্য তালিকা তে বিভিন্ন ফল ও শাক সবজির পরিবর্তন দেখা যায় এই ঋতুতে দেখা মিলে বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন জলপাই, বরই, আমলকি, সফেদা, কমলালেবু, আপেল, ডালিম,আঙ্গুর, পেয়ারা এই ফলগুলোতে থাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যেমন ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এই ফলগুলো শুধু খেতে সুস্বাদু নয় এগুলোতে আছে অনেক গুনাগুন দাঁত ও মাড়ির মজবুত করে, রক্ত পরিষ্কার রাখে, শরীরের কোষ গঠনে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাই এই ফলগুলো প্রতিদিন খাদ্য তালিকাতে রাখতে না পারলেও মৌসুমী ফল হিসাবে প্রতিটি ফল একবার করে খাওয়া উচিত প্রতিটি ফলের ভিন্ন ভিন্ন গুণাগুণ থাকে আর মৌসুমী ফলের গুনাগুন অনেক তাই এ ফলগুলো খাদ্য তালিকাতে রাখার চেষ্টা করুন।

প্রিয় পাঠক শীতকালের বৈচিত্র্যময় রূপ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি শীতের সকাল কতটা রঙিন ও মধুর হয় শীতের বিভিন্ন পিঠা উৎসব এবং শীতের ফল ও শাকসবজি নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়েছেন ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Motivational Spech কে আপনার অনুভূতি জানান

comment url